অর্থ সংগ্রহে নারীরাই প্রথম পছন্দ জঙ্গী নেতাদের- বিশ্লেষকরা

Comments are closed

পুরুষদের পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের কর্মকাণ্ডে যুক্ত করছে নারীদের। অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, সামাজিক বৈষ্যমের কারণেই এসবে জড়িয়ে পড়ছে নারীরা। আর, নারী কর্মীদের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহও সহজ বলে তাদের দলে ভেড়াতে আগ্রহী জঙ্গী নেতারা। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে জেএমবির চার নারী সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাব। তবে, এসব নারীদের বেশিরভাগেরই পরিবারের সদস্যরা জানেন না, কিভাবে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন তাদের সন্তানরা। র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আটক চার নারী জঙ্গির অন্যতম মাস্টার মাইন্ড ইসতিসনা আক্তার ঐশী। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন এই চিকিৎসকের বাবা-মা দু’জনই চিকিৎসক। পড়ালেখাও ঢাকার স্বনামধন্য এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তার দায়িত্ব ছিল, বাকী নারী কর্মীদের মাঝে সমন্বয়ের। মেয়ে সম্পর্কে প্রশ্ন করলে ব্যস্ততার অজুহাতে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন ঐশীর বাবা-মা।

আটক আরেক জন, আকলিমা রহমান মনি। রাজধানীর মানারাত ইন্টারন্যশনাল ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। পাঁচ-ভাই বোনের মধ্যে ছোট মনি। তার মা বলেন, পড়ালেখায় ভালো মেয়েটিকে যারা বিপথে নিয়ে গেছে, তাদেরও যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।

আরেক জন, ইশরাত জাহান মৌসুমী, ওরফে মৌ। আকলিমার সহপাঠীর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী হলেও বাবা-মার সঙ্গেই থাকতেন রাজধানীর মিরপুরে। কিভাবে মেয়েটি জড়িয়ে পড়ল, জঙ্গিবাদে-সে সম্পর্কে ধারণা নেই তার বাবার।

অনেকটা একই রকম অবস্থা, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী খাদিজা পারভীন মেঘলার। ২০১৩ সালে পরিবারিকভাবে তার বিয়ে হলেও তার স্বামী আঁচ করতে পারেনি স্ত্রীর জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে। আর, মেয়ের বাবার দাবি, মেঘলা সম্পূর্ণ নির্দোষ।

র‍্যাব জানায়, জেএমবির এই চার নারী সদস্যের দায়িত্ব ছিল মূলত অর্থ ও নতুন কর্মী সংগ্রহ। আরবী শিক্ষার নামে গোপন বৈঠক চালাতো তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান বলেন, শুধু পুরুষ সদস্য দিয়ে জঙ্গি সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রমে পুরোপুরি সফল হতে পারবে না। তাই, টার্গেট করা হচ্ছে নারীদের।

গেল, ১৫ আগস্ট রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জেএমবির এই ৪ নারী সদস্যকে আটক করে র‍্যাব।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh