আজ আব্দুল আলীমের মৃত্যুবার্ষিকী

Comments are closed

কোন কোন গান যখন মরমে প্রবেশ করে প্রাণকে আকুল করে, তখন সেটি কেবল আর গান থাকে না, হয়ে উঠে মনের কথা। যা সুর হয়ে বের হয়। মরমে বেঁধে বলেই মরমী গানও বলা যেতে পারে। আর এমন সব মরমী গান গেয়ে বাঙ্গালীর অন্তুর জুড়ে আজো যে শিল্পী অমর হয়ে আছেন তিনি হলেন আব্দুল আলীম। মাটি ও মানুষের দু:খ-কষ্ট, বেদনা-আনন্দকে সুরের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতেন বিশ্বময়।  তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা লোক সঙ্গীতের কিংবদন্তী।  দরাজ কণ্ঠে গাওয়া প্রত্যেকটি গান বাংলার আপামর জনসাধারণের বুকের তটভূমিতে বার বার আছড়ে পড়ে পদ্মা-মেঘনার উত্তাল ঢেউ হয়ে। গুণী এই শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ।পাঁচ শতাধিক গানের রেকর্ড রয়েছে আব্দুল আলীমের। স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় গ্রামোফোণে গান শুনে তৈরি হয় আগ্রহ। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে সুযোগ হয়নি কোন শিক্ষকের কাছে গান শেখার। তারপরও অন্যের গান শুনতেন এবং গাইতেন। একপর্যায়ে বিভিন্ন পালা-পার্বনে ডাক আসতে থাকে তার। এভাবেই শিল্পী হয়ে ওঠেন আব্দুল আলীম।

১৯৩১ সালে আব্দুল আলীম জন্মেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তালিবপুরের এক গ্রামে। গ্রামের আসরে তার গান শুনে মুগ্ধ হন সঙ্গীতাজ্ঞ সৈয়দ গোলাম আলী। তিনি আব্দুল আলীমকে নিয়ে যান কোলকাতায়। সেখানে কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে লোটের দলে গান করার পাশাপাশি সান্নিধ্য পান আরেক কিংবদন্তী আব্বাসউদ্দিনের। মাত্র ১৩ বছর বয়সে তার প্রথম গান রেকর্ড করা হয়।  ৪৭ এ দেশ বিভাগের পরের বছরের চলে আসেন ঢাকায়। স্টাফ আর্টিস্ট হিসেব যুক্ত হন বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে। মরমী এই শিল্পীর প্রতিভা বিকাশের সবচেয়ে বড় সুযোগ ঘটে এখানে। সান্নিধ্য পান পল্লী কবির জসিম উদ্দিনের। এছাড়া, সজ্ঞীতজ্ঞ মমতাজ আলী খান ও কানাই লাল শীলের কাছে লোক ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের উপর দীক্ষা নেন। পরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রেও গান গেয়েছেন তিনি।

পেশাগত জীবনে ঢাকা সঙ্গীত কলেজের লোকগীতি বিভাগের অধ্যাপনাও করেছেন আব্দুল আলীম। মরমী এই সঙ্গীত অনুরাগী ১৯৭৭ সালে মরনোত্তর একুশে পদক পান। এছাড়া, দেশে-বিদেশে বহু পুরষ্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। হলুদিয়া পাখি আজও গাছে গাছে ডাকে। বর্ষা আসে, আসে শীত বসন্ত। কিন্তু গানের সেই পাখি আর আসেন না। গেয়ে উঠেন না সেই একই গান। ১৯৭৪ সালে  আজকের এ দিনে ভক্তকূলকে কাঁদিয়ে  পল্লীগীতির এ কিংবদন্তী চলে যান না ফেরার দেশে।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh