আজ ববিতার জন্মদিন

Comments are closed

তাকে বলা হয় ঢালিউডের ড্রিম গার্ল,অনেকেই তাকে ভালোবেসে ডাকেন মিস লংকা নামেও। কখনও তিনি গোলাপি, কখনও তিনি অনুঙ্গ বউ, কখনওবা লাইলি। বলছিলাম বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ববিতার কথা। তার ডাক নাম পপি। ১৯৫৩ সালে আজকের এ দিনে বাগেরহাটে জন্ম নেন গুনী এ শিল্পী। ৭০, ৮০ এবং নব্বই দশকের শ্রেষ্ঠ  অভিনেত্রী তিনি।  পরপর তিন বছর একটানা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়ছেন ববিতা। এজন্য বলা হতো পুরস্কার কন্যা। তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সবচেয়ে বেশিবার আন্তর্জাতিক  চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। হয়েছেন বিভিন্ন সংস্থার  শুভেচ্ছা দূতও। জন্মদিনে কথা হলো মিষ্টি এই অভিনেত্রীর সঙ্গে।  আড্ডা আর গল্পে তিনি জানালেন তার জীবনের কিছু দারুন স্মৃতির কথা।

আজ আপনার জন্মদিন, কেমন লাগছে?

ববিতা: খুব ভাল লাগছে। সবাই শুভেচ্ছা দিচ্ছে। ভক্তরা আসছেন। তবে মজার ব্যাপার হলো আমি না  জন্মদিনটা একটু ভিন্নভাবে ভাবি। কারন আমার কাছে মনে হয় পৃথিবীতে আমি যতদিন বাচব,সেখান থেকে একটি বছর কমে গেল।

 

জন্মদিনের  উপহার নিয়ে কোন স্মৃতিটি এখনও মনে পড়ে?

ববিতা: ছোটবেলায় বাবা পত্রিকা পড়তেন।  আমি সেই পত্রিকা নিয়ে বিড়বিড় পড়ার চেষ্টা করতাম। বাবা সেটা লক্ষ্য করলেন। এরপর জন্মদিনে বাবা আমাকে একটা ডিকশনারি উপহার দিলেন। সেই উপহারটাই আমার প্রিয় উপহার। এখনও আমার কাছে ।

 

শুনেছি আপনি ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন, তাহলে অভিনয়ে কীভাবে আসলেন?

ববিতা: আমার মা ডাক্তার ছিলেন। আমারও ডাক্তার  হওযার ইচ্ছে ছিলো। বড় আপা সুচন্দা ও জহির দুলাভাই এর কথায় প্রথম আমি সিনেমায় অভিনয় করি। সংসার নামের এই ছবিতে আমি সুচন্দা ও রাজ্জাকের মেয়ের চরিত্রে ছিলাম। কিন্তু আমি ছবিটা খেলার ছলে করি। তখনও আমার ছবিতে কাজ করার মতো মানসিকতা ছিলো না। কিন্তু কিন্তু ধীরে ধীরে এ জগতকে ভালোবেসে ফেললাম। হয়ে গেলাম অভিনেত্রী।

 

প্রথম ক্যামেরার সামনে নায়িকা হিসেবে দাড়ানোর অভিজ্ঞতাটা  কেমন ছিলো?

ববিতা: ‍খুবই অদ্ভুত ছিলো। নায়ক নাদিমের সাথে একটা রোমান্টিক দৃশ্যায়ন ছিলো ,তাও আবার বরফের মতো ঠান্ডা জায়গায়। অনেক বেশী নার্ভাস ছিলাম। পরিচালক জহির রায়হান,মানে আমার দুলাভাইয়ের সহায়তায় খুব ভালভাবে কাজটা করতে পারি।

 

প্রায় পৌনে তিনশ ছবিতে অভিনয় করেছেন আপনি, আপনার ভালো লাগার সিনেমা কোনগুলো?

ববিতা: অনেক ছবিতে কাজ করা হয়েছে। সব গুলোই আমার ভালো লাগার। হ্যা,বিশেষ কয়েকটি ছবির মধ্যে যদি বলি,তাহলে গোলাপী এখন ট্রেনে, বসুন্ধরা, আলোর মিছিল, নয়ন মনি, ডুমুরের ফুল, অরুনোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, দহন, বাদী থেকে বেগম , স্বরলিপি, লাইলী মজনু, জন্ম থেকে জ্বলছি এই ছবিগুলো আজও  আমার কাছে জীবন্ত।

 

সত্যজিত রায়ের অশনী সংকেতে ছবিতে কাজ করেছিলেন,সেই সময়ে এই ছবির সফলতা নিয়ে যদি বলতেন?

ববিতা: সত্যি বলতে কী,অশনী সংকেত ছবিটি এখনও আমার জন্য গর্বের বিষয়। কারন এ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে আমি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেছি। অভিনয় দিয়ে পৌছে  গিয়েছিলাম চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের কাছে । অশনী সংকেতে সেই অনুঙ্গ বউ চরিত্রের কথা আসলেই নাম আসত বাংলাদেশের অভিনেত্রী ববিতার কথা। আমার নামে আগে আসত আমার দেশের নাম, সেজন্য অশনি সংকেত আমার প্রিয় চলচ্চিত্রের একটি। আর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য আমি সর্বভারতীয় শ্রেষ্ঠ নায়িকার পুরস্কারও পাই।

 

অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র অভিনয় করেছেন,আপনার পছন্দের চরিত্র কোনগুলো?

ববিতা: গোলাপী এখন ট্রেনের গোলাপী, নয়নমনির মনি, অনেক আছে। কিন্তু বাদি থেকে বেগমের চাদঁনী চরিত্রটি আমার জন্য বিশেষ ছিলো। কারন তখন আমাকে একই ছবিতে তিন রকমের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। আর ঐ ছবিতে বিশেষ একটি দিক ছিলো,ছবিটির জন্য প্রথম আমি ক্লাসিক্যাল ড্যান্স শিখি। তবে একটা কথা বলবো আমার প্রাধান্য বেশি ছিলো চরিত্র আর অভিনয়কে ফুটিয়ে তোলা। পারিশ্রমিকের কথা কখনোই ভাবতাম না। মানুষের হৃদয়ে যাতে থাকতে পারি সেই আশা ছিলো।

 

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে খ্যাতিমান অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন,কাদের সাথে কাজ করে ভালো লেগেছে?

ববিতা: আসলে কী, নায়ক রাজ- রাজ্জাক,ফারুক, জাফর ইকবাল, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, নাদিমসহ দেশ বিদেশের জনপ্রিয় নায়কদরে সাথে কাজ করেছি। কখনও কারও তুলনা করিনি। তাদের অভিনয় আসলেই খুব দারুন ছিলো। সবার কাছ থেকে কিছু না কিছু শিখেছি। কিন্তু আমার ভাল লাগার মানুষ ছিলেন জাফর ইকবাল। সে আমাকে ইংরেজিতে গান শোনাতো,আমরা একসঙ্গে অনেক অনুষ্ঠানে গান গেয়েছি। তাকে এখনও আমার ভালো লাগে।

 

তরুন অনেক শিল্পীর কাছে আপনি আদর্শ অভিনেত্রী,তাদের অভিনয় নিয়ে আপনার মূল্যায়ন?

ববিতা: এটা আমার সার্থকতা,আমি তাদের কাছে আইডল। অবশ্যই তরুনরা অনেক বেশি প্রতিভাবান। কারন আমরা যেসব নির্মাতাদের কাছ থেকে অভিনয় শিখেছি,জেনেছি,তারা সেটাও পাচ্ছে না।তারা নিজেদের চেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে। আমি আশাবাদি তাদের নিয়ে।

 

রুপালি পর্দা থেকে অনেকটা সময় দুরে আছেন, দেশের চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার মতামত?

ববিতা: হ্যা জানি বর্তমানে আমদানি ছবি এবং যৌথ প্রযোজনা নিয়ে অনেক সমালোচনা হচ্ছে। আমার মনে হয় অনেক সমস্যা আছে,সেগুলো সাধারন জনগন জানে। আমার মতে,চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি নতুনদের এ অনিয়ম রোধে এগিয়ে আসা ‍উচিত। আশা করি সরকারও এ বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

 

ভক্তদের জন্য কী বলবেন?

ভক্তরা না থাকলে আজকে আমি ববিতা হতাম না,স্বীকার করছি। তাদের এতো ভালোবাসায় আজ  আমি এ অবস্থানে। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে হয়।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh