একুশের গ্রন্থমেলায় সাংবাদিকদের বই

Comments are closed

নিয়মিত লেখক-সাহিত্যিকদের পাশাপাশি একুশে গ্রন্থমেলায় এবার পাঠকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু সাংবাদিকদের লেখা বই। পেশার কারণে নানা ধরণের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন সাংবাদিকরা। কিন্তু নিজ কর্মস্থলে সবসময় নিজের ভাবনা প্রকাশের সুযোগ হয়ে ওঠে না। আর সেই কারণেই বাস্তবভিত্তিক সেসব বিষয়কে নিজের লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেন সাংবাদিকরা।

২০১৬ সালে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে আলোচিত হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলা নিয়ে এবারের মেলায় অন্বেষা প্রকাশনী থেকে বই প্রকাশ করেছেন বাংলা টিব্রিউনের প্রতিবেদক নুরুজ্জামান লাবু। বই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন- ক্রাইম রিপোর্টিং এর সুবাদে হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলার খবর সংগ্রহ করেছিলাম। এ ঘটনায় যেসব তথ্য উপাত্ত তা থেকে আমার মনে হলো এ ঘটনা নিয়ে একটি বই হতে পারে। এরপর প্রায় পাচ মাস বইটি লেখার জন্য আমি কাজ করি। বইটিতে অনেক না জানা তথ্য উপাত্ত তুলে ধরার চেষ্টা করেছি যা এর আগে কোন গনমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি। এবং এখন পর্যন্ত ভাল সাড়া পাচ্ছি বইটি নিয়ে।

শুধু কী হলি আর্টিজান? বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কেউবা নিজের বইয়ে তুলে এনেছেন শহরে বসবাসরত দরিদ্র আর মধ্যবিত্ত শ্রেণীর গল্পকেও। যেমনটা জানাচ্ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার নূর সিদ্দিকী,তার বই মেয়েটির পায়ে নুপুর ছিল বিষয়ে। তিনি জানান- আসলে শহরের মধ্যবিত্ত আর দরিদ্র শ্রেনীর লোকেদের জীবনযাপন নিয়ে এখন তেমন একটা লেখা হয়না। আমি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকেই সে গল্পগুলো লিখেছি। আমি একজন ভিক্ষুকের জীবনকেও তুলে এনেছি। আবার রানা প্লাজায় ধ্বংসাবশেষের নিচে একটি মেয়ের পা দেখা যাচ্ছিল,এবং তার পায়ে একটি নূপূর ছিল-এর মধ্যেও আমি গল্প খুজে পেয়েছি। মূল কথা পাঠককে বাস্তব জীবনের নির্যাসটুকু দেয়ার চেষ্টা করা। বইটি পাওয়া যাচ্ছে মেলার ৬৩৪ ও ৬৩৫ নম্বর স্টলে।

একটু ব্যতিক্রমী লেখাও লিখছেন অনেকে। এদের মধ্যে বলা যেতে পারে চ্যানেল আই’র সিনিয়র নিউজ এডিটর জাহিদ নেওয়াজ খানের “সেলিফকান্ড” বইটি নিয়ে। যা মূলত বর্তমান সময়ের সেলফি তোলা নিয়ে ছোটদের জন্য লেখা একটি নাটিকা। জাহিদ নেওয়াজ খান জানান- মেয়ে স্কুলে নাটক করবে,এমন প্রেক্ষাপটেই কী নিয়ে নাটক বানানো যায় বিষয়টি নিয়ে চিন্তা শুরু। এরপর বর্তমানের একটি জনপ্রিয় বিষয়ে নাটক হতে পারে বলে ভাবলাম। এরপর দেখলাম এখনকার যুগে তরুনদের মধ্যে সেলফি তোলার বিষয়টি প্রবল। ব্যাস লিখে ফেললাম। আমার এই নাটিকাতে একজন মেয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে সবকিছূ ভুলে যায় সে বিষয়টি তুলে এনেছি। আমি বোঝাতে চেয়েছি.তরুন প্রজন্মের  জন্য অনলাইন যেমন ইতিবাচক  কাজে ভূমিকা রাখতে পারে, তেমনি এর কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। বইটি পাওয়া যাচ্ছে মেলার ৪১২ নম্বর স্টলে।

ছোটদের জন্য বই প্রকাশ করছেন তরুণ সাংবাদিকরাও। এদের মধ্যে ছোটদের কাছে প্রিয়নাম এনটিভি’র তরুণ লেখক ও সাংবাদিক নাইস নূর। যিনি এবার প্রকাশ করেছেন জেবার প্রিয় বারবি ডল। নাইস নূর বলেন-আসলে বাচ্চাদেরকে যদি একটু রসবোধ দিয়ে গল্পের মাধ্যমে কোন মেসেজ দেয়া যায় তাহলে বাচ্চারা সেটা পছন্দ করে। আমি চেষ্টা করি সেভোবেই লিখার। এবং বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এ বছরও আমার বইটি মানুষ পছন্দ করছে। এখানে অনেকেই আবার সাংবাদিক হিসেবে আমার লেখা পছন্দ করছে বলে আমার লেখা বই নিয়েও তারা আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিষয়টি অবশ্যই আমার প্রাপ্তি। সাহস পাবলিকেশন্সের প্রকাশিত বইটি পাওয়া যাচ্ছে ৩৬৯ নম্বর স্টলে।

সাংবাদিকদের পাশাপাশি লেখায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন অনেক গণমাধ্যম কর্মীও। তাদের বইগুলোও রয়েছে পাঠক চাহিদার তালিকায়। এদের মধ্যে উপস্থাপক ও রেডিও জকি ইভান সাইরের ছোট গল্পের বই পরী রয়েছে সেই তালিকায়। বইটি সম্পর্কে ইভান বলেন-আমি সাহিত্যের ছাত্র। সেকারনে টুকটাক লেখালেখির চেষ্টা। “পরী” আমার চতুর্থ বই। বইটিতে আমি আমাদের চারপাশে বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে,সেগুলো গল্পের মাধ্যমে তুলে এনে এক একটা বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছি। এবং যারা রেডিওতে আমাকে শুনে,তাদের কাছ থেকে বেশ ভাল সাড়া পাচ্ছি। দেশ পাবলিকেশন্স প্রকাশিত “পরী” বইটি পাওয়া যাবে ৫০২ ও ৫০৩ নম্বর স্টলে।

সাংবাদিকদের এমন ব্যতিক্রম লেখার জন্য পাঠকদের রয়েছে আলাদা আগ্রহ। সেই কারণে প্রকাশকরাও সাচ্ছন্দ্যে এগিয়ে আসেন এসব বইয়ের প্রকাশনায়।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh