ওপারের পর এপারেও গ্রহণযোগ্যতা পেল ‘নিয়তি’

Comments are closed

দেশের শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে ১২ আগস্ট মুক্তি পেল  জাজ ও এসকে মুভিজের ব্যানারে নির্মিত যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘নিয়তি’। যেখানে একসাথে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন আরেফিন শুভ ও জলি। ছবিটি  এরই মধ্যে মুক্তি পেয়েছে কোলকাতায়। পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তাও।

মুক্তির প্রথম দিনেই রাজধানীর বলাকা হলে ছিল দর্শকদের লম্বা সারি। কেউ এসেছেন বন্ধুদের সাথে, কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে। কেন নিয়তি দেখতে আসা-এমন প্রশ্নের উত্তরে দর্শকরা উল্লেখ করেছেন ভিন্ন ভিন্ন কারন। কেউ বললেন আরেফিন শুভর ভ্ক্ত, তাই এসেছেন নিয়তি দেখতে। কেউ আবার এসেছেন ট্রেলার আর গান দেখে। মধ্যবয়সী অনেকেই আবার এসেছেন, ‘অনেক সাধনার পরে’ গানটির রিমেক শুনে।

মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে মিলা। যেকোন কিছু নিয়ে যার অস্থিরতা তুঙ্গে। এক পর্যায়ে তার সাথে দেখা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী শুভ্রর সাথে। আর দুজনের সেই দেখার প্রেক্ষাপট থেকেই গল্পের শুরু। ঘটনাচক্রে মিলাকে হতে হয় শুভ্রের গাড়ির চালক।  আর মিলাও শুরু করে শুভ্রকে নিয়ে নানান রকমের খুনসুটি। এরপর্যায়ে খুনসুটি রুপ নেয় প্রেমে। কিন্ত, একটি অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা বদলে দেয় শুভ্র মিলার জীবন। এভাবেই  ছবির গল্প গড়ায় শেষ পর্য্ন্ত। যা ছবির নামকরনের সার্থকতাকে তুলে ধরে।

এবার আসি চলচ্চিত্রটি দর্শকদের কতটা প্রভাবিত করল। প্রথমার্ধে পুরোটাই ছিল ভরপুর বিনোদন। যে কারনে প্রথমার্ধ বেশ উপভোগ করেছেন দর্শক। নায়ক-নায়িকার বিভিন্ন খুনসুটির দৃশ্যগুলোতে সেই উচ্ছ্বাস যেন আরোও বেড়ে যায়। বাঙালি ধাঁচে একটি সাধারণ গল্পকে পর্দায় ভিন্ন উপস্থাপনের যে চেষ্টা পরিচালক করেছেন সেখানে পরিচালক সফল বলা যেতেই পারে। কিন্তু, দ্বিতীয়ার্ধে দেখা গেল সম্পূর্ন ভিন্ন চিত্র। গল্পের ধীরগতি কিছুটা বিরক্ত করে দর্শকদের। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দৃশ্যে অভাব ছিল চিত্রনাট্যর সঠিক গাথুনি। নায়কিার মৃত্যুতে বিয়োগাত্নক সমাপ্তি নিয়েও দর্শকদের রয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া।

অভিনয় নিয়েও নিজ নিজ অভিব্যক্তি জানিয়েছেন দর্শকরা। শুভ্র চরিত্রে লাভিং ইমেজের আরেফিন শুভর প্রতি মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক। মিলার চরিত্রে জলির অভিনয় দর্শকের মনে খুব একটা দাগ না কাটলেও, তার অভিনয় চেষ্টার প্রশংসা করেছেন তারা।

ছবির সংলাপে তেমন ভিন্নতা না থাকলেও , বেশ কয়েকটি সংলাপ হাস্যরসের খোরাক জুগিয়েছে। হল থেকে বেরিয়ে অনেক দর্শক সেই সংলাপ নিয়ে করেছেন হাসি ঠাট্রাও। একই সঙ্গে, আলোচনায় এসেছে ছবির শেষ দৃশ্যে শুভর বয়সউর্দ্ধো চরিত্রায়নের বিষয়টিও।

চলচ্চিত্রটিতে বেশিরভাগ কলাকুশলী বাংলাদেশের হওয়ায় যৌথ প্রযোজনা প্রেক্ষাপট নিয়েও সন্তুষ্টি ছিল দর্শকদের। তবে সবচাইতে প্রশসংনীয় হয়েছে ছবির গানগুলো। সঠিক প্রেক্ষাপটে সঠিক গানটির ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। যে কারনে পরিচালক ও সংগীত পরিচালকের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন দর্শকরা।

 

 

 

 

 

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh