কন্যা শিশুর মান উন্নয়নে মীনা

Comments are closed

বিশ্ব মীনা দিবস আজ। সমাজে মেয়েদের অবস্থানকে উন্নত করার লক্ষ্যে নব্বইয়ের দশকে ইউনিসেফের সৃষ্টি করা একটি জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র। যে চরিত্রের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন অসংগতিকে ফুটিয়ে তোলা হয় দারুনভাবে। আজও মীনা কার্টুনের প্রতিটি পর্ব জনপ্রিয় অনেকের।

আমি বাবা-মায়ের শত আদরের মেয়ে

আমি বড় হই সকলের ভালোবাসা নিয়ে…

এ গানের মতোই মিষ্টি আর প্রাঞ্জল মীনা কার্টুন। নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের তুমুল জনপ্রিয় এ কার্টুনটি ছিলো মেয়েশিশুদের সমাজিকভাবে প্রতিষ্ঠা এবং প্রাগ্রসরতার প্রতীক। যে কারনে মীনাকে চেনেন না, এদেশে এমন লোক হয়তো নেই।

আজ থেকে ২০-২৫ বছর আগের কথা। তখন পড়াশুনা, পারিবারিক সিদ্ধান্ত কিংবা সামাজিক কাজে মেয়েদের অংশগ্রহণ ছিলো অনেক কঠিন। মীনা কার্টুন সে সময় এসব প্রতিবন্ধকতাকে ভেঙ্গে দিতে রাতারাতি বিপ্লব আনে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জোট-সার্ক নব্বইয়ের দশককে মেয়ে শিশুদশক ঘোষণা করলে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ মীনা কার্টুনটির প্রবর্তন করে। যা সমাজে মেয়েদের সম্পর্কে ইতিবাচক চিন্তাধারা সৃষ্টি করে।

শুধু সমাজে মেয়েদের অবস্থান নয়,স্বাস্থ্য সচেতনতা, পরিবেশ সচেতনতা, গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতন রোধ ও শিক্ষার গুরুত্ব,সমাজে বিদ্যমান সকল অসংলগ্নতার কথাও তুলে আনা হয়েছিল মীনার মাধ্যমে। যার মাধ্যমে অভিভাবকদের দৃষ্টিভঙ্গিতে আসে বড় ধরনের পরিবর্তন।

মীনার যুগ পার হয়েছে। তবে এখনো আবেদন রয়েছে তার মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের প্রত্যাশার। আর সে প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরলেন  বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও মহিলা পরিষদের সদস্য কাজী রোজি।

১৯৯৮ সাল থেকে আজকের এই দিনটি মীনা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। যুগ আর সময়ের পরিবর্তনে মীনা চরিত্র সৃষ্টির উদ্দেশ্য অনকেটাই সফল হয়েছে। তবে সব বাধা পেরিয়ে পরিবার ও সমাজ মেয়েদের জন্য হোক শতভাগ নিরাপদ মীনা দিবসের এ প্রত্যাশা সবার।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh