জেনারেল ওসমানীকে ডিফেন্স অ্যাডভাইজার করার ঘোষণা

Comments are closed

২৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে নিউজ বুলেটিনে জেনারেল ওসমানীকে ডিফেন্স অ্যাডভাইজার করার ঘোষণা জানতে পারেন।

১৫ আগস্ট শপথ অনুষ্ঠান শেষে তিনি বঙ্গভবন থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় তাহের উদ্দিন ঠাকুর  সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে বলেন, কনফারেন্স হবে, এখন যাবেন না। সেই না যাওয়া ১৮ আগস্ট সকাল পর্যন্ত গড়ায়। এক কাপড়ে এই ক’দিন বঙ্গভবনে অবস্থানে বাধ্য থাকার সময় তিনি ডেপুটি চীফ অব আর্মি স্টাফ জিয়াউর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম এবং কে এম ওবায়দুর রহমানকে বঙ্গভবনে আসা-যাওয়া করতে দেখেন। সবসময় তাদের সঙ্গে থাকতো অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল তাহের উদ্দিন  ঠাকুর।

ওইসময়ের বর্ণনা দিয়ে শফিউল্লাহ জানান, খন্দকার মুশতাক প্রেসিডেন্ট হয়ে প্রথমেই গাজী গোলাম মোস্তফাকে রেডক্রস চিফের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন। দ্বিতীয় যে কাজটি খন্দকার মুশতাক করেন, সেটি হচ্ছে মাহবুব আলম চাষীকে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দ্যান।

পরের সময়গুলোতে কি হয়েছে জানাতে গিয়ে শফিউল্লাহ বলেন, ১৮ আগস্ট বঙ্গভবন থেকে ফিরে রাতে একটি কনফারেন্স ডাকেন। এতে এয়ার ও নেভি চিফ, বিডিআর প্রধান, আইজি নুরুল ইসলাম, ডিজিএফআই’র ব্রিগেডিয়ার রউফ, ডিএমএ কর্নেল নূর উদ্দিন এবং ডিএসটি কর্নেল মালেকসহ সিনিয়র অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা যার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কোনো সম্পর্ক নেই। সেনাপ্রধান হিসেবে শফিউল্লাহকে বলা হয়, এইসব উচ্ছৃঙ্খল অফিসারের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

পরদিন ফরমেশন কমান্ডারদের যে বৈঠক ডাকা হয় তাতে খন্দকার মুশতাকের নির্দেশে মেজর রশিদ ও মেজর ফারুকও যোগ দেয়। কনফারেন্সের উদ্দেশ্য ছিলো শৃঙ্খলাভঙ্গকারী অফিসারদের সেনানিবাসে ফেরত আনা। ফেরত আনার উদ্দেশ্যে কৌশলগতভাবে শফিউল্লাহ বলেন, ইন্ডিয়া মাইট অ্যাটাক বাংলাদেশ। আমাদের এটা প্রতিহত করতে হবে। তাই রিগ্রুপিং এর দরকার আছে।

এক পর্যায়ে মেজর রশিদ এবং মেজর ফারুককে লক্ষ্য করে সাফায়েত জামিল বলেন, দে মাস্ট বি পুট টু কোর্ট মার্শাল। শফিউল্লাহ বলেন, এতে তাদের মুখ মলিন হয়ে যায়।

ফারুক-রশিদের মুখ মলিন হয়ে গেলেও ব্যবস্থা কিন্তু কেউ নিতে পারেননি। বরং শফিউল্লাহর নিজের ভাষায়, মনে হলো কনফারেন্স ডাকার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে গেছে। তাই কনফারেন্সের সমাপ্তি ঘোষণা করে শফিউল্লাহ চলে আসেন, প্রতিক্রিয়া দেখতে থাকেন।

অক্ষম সেনাপ্রধান আবার ২২ আগস্ট বঙ্গভবনে সেই খন্দকার মুশতাকের কাছে যান যাকে তিনি প্রথমে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মানেন না বলে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। সেদিনও তিনি ট্রুপস ফিরিয়ে এনে রিগ্রুপিং এর কথা জানান। জবাবে খন্দকার মুশতাক বলেন, ওয়েট এন্ড সি।

শফিউল্লাহ তার সাক্ষ্যে জানান: ২৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে নিউজ বুলেটিনে জেনারেল ওসমানীকে ডিফেন্স অ্যাডভাইজার করার ঘোষণা জানতে পারেন। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রেসিডেন্টের ফোন আসে। মুশতাক তাকে বলে, তুমি শুনেছো? শুনেছি জানালে মুশতাক বলে, ডিড ইউ লাইক ইট? জবাবে শফিউল্লাহ বলেন, ভালো হয়েছে। মুশতাক তাকে পরে বিকেল সাড়ে ৫টায় বঙ্গভবনে যেতে বলেন।

সময়মতো বঙ্গভবনে গিয়ে জেনারেল জিয়া এবং জেনারেল খলিলকে বঙ্গভবন থেকে বের হয়ে যেতে দেখেন তিনি। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার আগে তাকে ওসমানীর সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। ওসমানী শফিউল্লাহর অনেক প্রশংসা করে বলেন, তুমি দেশের জন্য অনেক কিছু করেছো, এখন তোমার সার্ভিস বিদেশে দরকার।

তার জায়গায় কে আসছেন জানতে চাইলে মুশতাক জিয়াউর রহমানের নাম বলেন। শফিউল্লাহ তখন বলেন, ডোন্ট থিংক এট দিস স্টেজ জিয়া উইল বি মিসআন্ডারস্টুড? জবাবে মুশতাক বলে, দিস উইল বি টেকেন কেয়ার অফ। শফিউল্লাহ দেশের বাইরে যেতে রাজি নন জানালে মুশতাক বলেন, ডোন্ট থিংক অব স্টেয়িং ইন দ্যা কান্ট্রি। শফিউল্লাহ তখন আর উচ্চবাচ্য না করে ক্যান্টনমেন্টে ফেরত আসেন বলে জানান। দেখেন জেনারেল জিয়া এরইমধ্যে চিফ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অফিসারদের সঙ্গে মিটিং করছেন। আগামীকাল শুনবো চিফ অব আর্মি হিসেবে জেনারেল জিয়াউর রহমানের নাম ঘোষণার কথা।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh