তুরাগে গণধর্ষণ: ঘটনা ধামাচাপা দিতে সক্রিয় পুলিশসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা

Comments are closed

গত ২৪শে জানুয়ারি, মঙ্গলবার, রেডিও ধ্বনিতে সম্প্রচার হয় তুরাগে বেড়াতে গিয়ে এক গার্মেন্টস কর্মী গণধর্ষণের ঘটনা। সেটি অনুসন্ধানে নেমে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য। মেয়েটির খোঁজ পাওয়া না গেলেও অভিযোগ মিলেছে ওই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ায় পুলিশের তিন সদস্যের ভূমিকার। এদের সঙ্গে কামাল ওরফে ডিস কামাল নামে তুরাগের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির জড়িত থাকারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ধর্ষণের ঘটনা ভিডিও ধারণের সময় এমন দাম্ভিক উক্তি ছিল ধর্ষকদের। এই দাম্ভিকতার উৎস কোথায়? তাই আগ্রহী করে তোলে রেডিও ধ্বনিকে। গণধর্ষণের খবরটি সম্প্রচারের পরদিন আশুলিয়ায় চলে ধর্ষকদের বিষয়ে অনুসন্ধান। পাশাপাশি নির্যাতিতা মেয়েটিকে সুবিচার পাইয়ে দিতে তার খোঁজও প্রয়োজন। এ লক্ষে তুরাগের বেশ কয়েকটি গার্মেন্টসে অনুসন্ধান করা হয়। কিন্তু মেয়েটির বিষয়ে কিছু জানা সম্ভব হয় নি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গণধর্ষণের ঘটনাটি বেশ পুরানো। তবে ভিডিওটি তুরাগ-আশুলিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় তা একপর্যায়ে রেডিও ধ্বনির হাতে আসে। সেই ভিডিও চিত্র দেখে এবং এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায় বর্বর ওই ঘটনার সঙ্গে ফালু, আকবর, কালাই ও ইকবালসহ আরও কয়েকজন জড়িত। এরমধ্যে কালাই মূলহোতা। কালাইয়ের বাসা, তুরাগের ধউরের কুলুপাড়ার ৫ নম্বর রোডের ২৬ নাম্বার বাড়িতে। ফালু, আকবর ও ইকবালের বাড়িও একই রোডে।

তুরাগের ধউরের কুলুপাড়ার ৫ নম্বর রোডের ২৬ নাম্বার বাড়িতে কালাইয়ের সন্ধানে গেলে কথা হয় তার এক নিকট আত্মীয়র সঙ্গে। সে গণধর্ষণের ঘটনার পরের অনেক কিছুরই প্রত্যক্ষদর্শী। রেডিও ধ্বনিকে সে জানায়, কালাইয়ের বেপরোয়া জীবনযাপনের কথা।

গণধর্ষণের ঘটনায় নির্যাতিতা মেয়েটি প্রথমে মামলা করতে চাইলেও তাকে বাধা দেয়া হয়। প্রভাবশালী কামাল ওরফে ডিস কামালের বাসা তুরাগের রাজাবাড়িতে। এই কামালের বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকত মেয়েটি। আর মেয়েটিকে বেশ কয়েকবার বিয়ের প্রস্তাব দেয় কালাই। তবে রাজি না হওয়ায় সর্বনাশ ঘটায় কালাই এবং তার সঙ্গীরা। এরপর শুরু হয় ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা। যার নাটের গুরু কামাল। তার মধ্যস্ততায়; মেয়েটি, পুলিশের তিন সদস্য এবং ধর্ষকদের উপস্থিতিতে কামালের সিমেন্টের দোকানে বসে শালিস-বিচার।

শালিস-বিচারে মেয়েটিকে মামলা করতে না বলে কিছু টাকা ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে কামাল ও পুলিশ সদস্যরা। তবে লোক লজ্জায় মেয়েটি আর মামলা করেনি। টাকাও নেয় নি। তবে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় ধর্ষকদের হুমকিতে।

ওই শালিসে উপস্থিত ছিলেন তুরাগ থানার এসআই ইজ্জত আলী, এএসআই শামীম ও কনস্টেবল রাকীব। বর্তমানে এরা কেউই তুরাগ থানায় নেই। বদলি হয়ে এসআই ইজ্জত আলী আছেন ঠাকুরগাঁও, এএসআই শামীম আছেন উত্তরার পূর্ব থানায় ও কনস্টেবল রাকীব আছেন উত্তরখান থানায়। কালাই এর ওই নিকট আত্মীয় আরও জানান, মামলার ভয় দেখিয়ে ধর্ষকদের কাছ থেকে কামালের মাধ্যমে নিয়মিত টাকা নিত পুলিশের ওই তিন সদস্য।

গণধর্ষণের ঘটনাটির পর মেয়েটির বন্ধু রনির বিষয়েও অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে তারও খোঁজ পাওয়া যায় নি। ওই শালিসে রনি ছিল কি-না সেটিও মনে করে বলতে পারছিলেন না কালাইয়ের আত্মীয়।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh