“নিয়তি” তে বিশ্বাসী শুভ – জলি

Comments are closed

১২ আগস্ট দেশের শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে জাজের যৌথ প্রযোজনার ছবি নিয়তি ।এতে প্রথমাবারের মতো জুটি বেধেছেন হালের জনপ্রিয় নায়ক আরেফিন শুভ ও নায়িকা জলি। এসকে মুভিজের ব্যানারে এরইমধ্যে ছবিটি মুক্তি পেয়েছে কোলকাতায়। পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তাও। এখন ছবিটির বাংলোদেশে মুক্তি নিয়ে প্রচারনায় ব্যাস্ত ছবির কলাকুশলীরা। এই প্রচারনার অংশ হিসেবে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে করা হয় সংবাদ সম্মেলন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ছবিটির কলাকুশলীসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পরিচালক জাকির হোসেন রাজু,শুভ ও জলি। বরাবরের মতো সাথে ছিলেন জাজের কর্নধার আব্দুল আজিজও । কথা বলেন ছবিটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে । এক পর্যায়ে শুভ ও জলির সাথে ছবিটি নিয়ে কথা হয় রেডিও ধ্বনিরও।

  • সাক্ষাৎকার: জাকিয়া হিমু

গল্পের মৌলিকতা নিয়ে দর্শকমনে সবসময়ই  আশংকা থাকে- কী মনে করছেন নিয়তির গল্প দর্শক গ্রহন করবে তো?

শুভ: নিয়তি একটি রোমান্টিক ও সরল প্রেমের গল্প। গল্পটি মৌলিক ।   দর্শক যখন হলে বসে সিনেমাটি দেখবে, আশা করি গল্পের গভীরতা বুঝতে পারবে।  পরিচালক বেশ চেষ্টা করেছেন গল্পটি ফুটিয়ে তুলতে। হ্যা যতটা আমার মনে হয়,যারা ‍ইমোশনাল তারা একটু হলেও চোখের পানি ফেলবে। আশা করি কোলকাতায় ছবিটি যেমন সাড়া পেয়েছে,বাংলাদেশেও তেমন সফলতা পাবে।

জলি: নিয়তি আমার দ্বিতীয় ছবি। এটা আমার সন্তানের মতো। নিয়তির গল্পের ভিন্ন দিক হলো,ছবিতে প্রধান ভিলেন হচ্ছে নিয়তি বা ভাগ্য। যেটাই বলেন ! কারন নিয়তিতে যা আছে তাই হবে,তাতে কারও কিছু করার নেই । গল্পে সেটাই তুলে ধরা হয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি নিজের ভুল ত্রুটি সুধরিয়ে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার । এখন দর্শকদের উপর সম্পূ্র্নটা নির্ভর করছে ।

 

প্রথমবারের মতো একসাথে কাজ করেছেন ,দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াটা কেমন ছিল?

শুভ: অনেক ভাল। জলি নতুন হিসেবে অনেক ভাল করেছে। ও খুব পরিশ্রমী একটা মেয়ে। কাজ নিয়ে জলির মনোযোগ  প্রশসংনীয়।

জলি: শুভ ভাইকে নিয়ে প্রথমেই যে কথাটা বলব,তা হলো উনি কখনোও আমাকে নিরাশ হতে দেননি। উৎসাহ দিয়েছেন কীভাবে কাজটা আরোও ভাল করা যায় ।

 

নিয়তির শ্যুটিং এ কোন মজার স্মুতি আছে কী:

শুভ: মজার স্মুতি নেই,আছে কষ্টের স্মৃতি। ঢাকাই শাড়ি ,গানটি দেখে অনেকেই ভেবেছেন  খুব নাচানাচি,ও মজা করেছি আমরা। স্ক্রিনে সেটা বোঝা যায়নি। সেটা হলো এই গানটির শুটিং হয়েছে হায়দ্রাবাদে। সেসময় ঐখানে প্রচন্ড রোদ আর গরম ছিল। মাথা ঘোরানোর মতো অবস্থা। গরমে সবার অবস্থা বেশ নাজেহাল ছিল। তবে ভালোভাবে কাজটা শেষ করতে পেরেছি বলেই দর্শক গানটিকে পছন্দ করেছে। এটাই ভালো লাগার বিষয়।

জলি: প্রত্যেকটা দিন,প্রত্যেকটা সিন আমার জন্য মজার ছিলো। আমারও একই স্মৃতি ঢাকাই শাড়ি নিয়ে। তবে আমার কষ্টটা হয়েছিল বেশি। কারন ঢাকাই শাড়ির শুটিং এ আমার পা পুড়ে  যায়।  সেই অবস্থায় আমি ঢাকাই শাড়ি সহ ছবির গানের শুটিং করি।

 

নিয়তির প্রত্যেকটা গান শ্রুতিমধুর, আপনাদের পছন্দের  গান কোনটি?

শুভ: নিয়তির প্রতিটি গানই আমার কাছে দারুন লেগেছে। কিন্তু বিশেষ করে যদি বলি,তাহলে তোকে ছাড়া  গানটি আমার ভীষন প্রিয়। এর প্রধান কারনটা হলো,এই গানটা নিয়তির গল্পটাকে অনেকাংশে ধারন করে।

জলি: আমার পছন্দের গান হলো অনেক সাধনার পরে । ছোটবেলা থেকে এই গানটি দেখে আসছি। কখনোও ভাবিনি এই গানে আমি পারর্ফম করবো। আর যখন গানটার দৃশ্যধারন শুরু হয় তখন বেশ ভয় লাগছিল। ভাবছিলাম আমি কাজটা ঠিকমত করতে পারব কিনা?  এখন যখন সবাই গানটার প্রশংসা করছে, আসলেই ‍খুব ভালো লাগে। আমি নিজেও সারাদিন গুনগুন করে গাই।

 

যৌথ প্রযোজনা নিয়ে তো অনেক বির্তক- সেক্ষেত্রে  নিয়তি নিয়ে আপনারা কতটুকু সন্তুষ্ট?

শুভ: আমি সবসময় সমনীতির পক্ষে। যৌথ মানেই দুদেশের সমান উপস্থিতি। নিয়তির ছবিটির কলাকুশলীর অনেকেটা অংশ বাংলাদেশের। শুটিং বেশিরভাগ হয়েছে বাংলাদেশে। সেক্ষেত্রে যৌথ প্রযোজনার নিয়তি নিয়ে আমার কোন অভিযোগ নেই। আর এমনভাবে যদি যৌথ প্রযোজনা হয়,সেটা আমার কাছে গ্রহনযোগ্য,নতুবা নয়।

জলি: যৌথ প্রযোজনা দিয়ে জাজের ঘরে আমার অভিষেক। যৌথ প্রযোজনা মানে এটি দুদেশেরই ছবি। তবে বাংলাদেশী হিসেবে আমি আমার দেশকে এগিয়ে রাখতে চাই। সব মিলিয়ে মানুষ যাতে হলে এসে সিনেমা দেখে সেটাই প্রত্যাশা । আশা করছি নিয়তি দেখার পর দর্শক নিরাশ হবেনা।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh