“পাখি উড়ে গেলেও পলক ফেলে যায়, আর মানুষ চলে গেলে ফেলে রেখে যায় স্মৃতি”

Comments are closed

“পাখি উড়ে গেলেও পলক ফেলে যায়, আর মানুষ চলে গেলে ফেলে রেখে যায় স্মৃতি”- এভাবে কখনও নাটকের সংলাপ, গানের চরণ কিংবা উপন্যাসের অঙ্কে অঙ্কে নিজ দর্শনের চিহ্ন রেখে গেছেন  হিমু, মিসির আলীর স্রষ্টা হুমায়ুন। কর্মজীবনে উপন্যাস, নাটক, গান, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী থেকে শুরু করে নির্মাণ করেছেন দর্শক প্রিয় নাটক এবং চলচ্চিত্র।  উপন্যাসে যেমন লেখক হুমায়নের ছিল নিজস্ব ঢঙ এ গল্প বলার শৈলী, তেমনি বাংলা নাটক-সিনেমায় তৈরি করে গেছেন স্বতন্ত্র ধারা। নির্মাণের এ মহান কারিগরের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে সময়ের অনেক কলাকুশলীদের। তার হাত ধরেই সংস্কৃতির অঙ্গনে আবার পরিচিত হয়েছেন অনেকেই। স্বাধীনতাত্তোর সবথেকে জনপ্রিয় এ সাহিত্যিককে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তাদেরই কয়েকজন। সাক্ষাৎকারগুলো গ্রহণ করেছেন রেডিও ধ্বনির নিউজ ব্রডকাস্টার জাকিয়া হিমু।


তারিক আনাম খান:   একজন বড়মাপের চলচ্চিত্র পরিচালক শুধু নন, হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন বিনয়ী ও প্রাণবন্ত মানুষ। তার সাথে কাজ করেছি তিনি যখন পিএইচডি শেষে  দেশে ফিরে নাটক নির্মান শুরু করেন। সম্ভবত তার দ্বিতীয় নাটকটিতে অভিনয়ের মাধ্যেমে তার সাথে আমার পরিচয়। এরপর  নানা কারনে তার সাথে কাজ করা হয়নি। একদিন  হুমায়ুন নিজে আমাকে তার ছবি ঘেটুপুত্র কমলাতে অভিনয়ের জন্য বলেন । তখন তিনি আমাকে খুব স্পষ্ট করেই বলেন আমার অভিনয় তার পছন্দ নয়। সেজন্য ছবির আগে তিনি পরীক্ষা হিসেবে একটি নাটকে আমাকে অভিনয় করতে বলেন। মজার বিষয় হলো নাটকে অভিনয়ের পর তিনি আমার কাছে দুঃখ প্রকাশ করলেন। বেশ আনন্দের সাথে আমার অভিনয়ের প্রশংসা করলেন। এরপরই আমাদের মধ্যে বেশ সখ্যতা গড়ে ওঠে। আর কথাটা আমার এখনও খুব মনে পড়ে। এটা একটা বড় কষ্ট আমার ,যখনই আমি তার সাথে ঘনিষ্ট হলাম ঠিক তখনই উনি চলে গেলেন।

 

ইমন সাহা:   ছোট বেলা  থেকে হুমায়ুন স্যারের বই পড়তাম। সে জায়গা থেকে তিনি আমার পছন্দের একজন মানুষ। সঙ্গীতে ভুবনে পা রাখার পর অনেকের সাথে আমি কাজ করি। এরপর অভিনেতা প্রান রায় হুমায়ুন স্যারের ঘেটুপুত্র কমলাতে মিউজিক করার জন্য যোগাযোগ করেন। তখন সত্যিই নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল। এরপর স্যারের বাড়ি.শুট্যিং স্পটে অনেক আড্ডা দেয়া হয়েছে। যেগুলো এখনও আমার মনে পড়ে। তবে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে  একটি কথা। ঘেটুপুত্র কমলা ছবির মিউজিকের জন্য আমি প্রায় তিন মাস সময় নিয়েছিলাম। যে কারনে স্যার একদিন নিজেই আমার স্টুডিওতে এসে মিউজিক শুনতে চান। দুই রিল শোনার পর তিনি বললেন  সরকার যদি তোমাকে জাতীয় পুরস্কার না দেয়-আমি হুমায়ুন আহেমদ তোমাকে জাতীয় পুরস্কার দিয়ে দিলাম। সত্যি সত্যি যখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে এই ছবির জন্য আমার নাম ঘোষনা হয় তখন বারবার হুমায়ুন স্যারের কথাটি কানে বাজচ্ছিল। আমি জানি না কীভাবে তিনি বুঝলেন, আচ করলেন! হয়তো এর জন্যই তিনি হুমায়ন আহমেদ।

 

জাকিয়া বারী মম: ছোটবেলায় হুমায়ন স্যারের আজ রবিবার নাটকটি বেশ পছন্দের ছিলো। এখনও আমার ঐ নাটকটির কথা মনে পড়ে। তার সাথে খুব বেশি কাজ করতে পারি নি তবে কয়েক টি গল্পে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। যার মধ্যে দারুচিনি দ্বীপের কথা  সবাই জানে। ঐ ছবিতে স্যারের ডিরেকশন না থাকলেও তিনি সবার সাথে বসে চিত্রনাট্যে বুঝিয়েছেন। শিখিয়েছেন অনেক কিছু। এটা আমার কাছে একটা বিশেষ অভিজ্ঞতা। এবারে ঈদেও তার “এসো ”গল্পে মেহের আফরোজ শাওনের পরিচালনায় কাজ করেছি। যখন আমি স্যারের বাসায় শুট্যিং করছিলাম তখন অদ্ভুত একটা অনুভূতি কাজ করছিল।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh