পেয়ারের জঙ্গি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি: ডিএমপি কমিশনার

Comments are closed

গুলশান হামলার সঙ্গে মালয়েশিয়ায় জঙ্গি সন্দেহে আটক পেয়ার আহমেদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। সকালে এফডিসিতে এক সেমিনারে তিনি বলেন, আকাশ ২০০৪ সালের ১০ ট্রাক অস্ত্র মালমার আসামী। তবে, গুলশানে হামলায় তার সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানা, ডিএমপি কমিশনার।

এদিকে, সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক পেয়ার আহম্মদ আকাশকে ফেনী কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গেলো ১৯ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২ সেপ্টেম্বর তাকে বাংলাদেশে প্রেরণ করে মালয়েশিয়া পুলিশ।  মালয়েশিয়ান পুলিশের অভিযোগ, গুলশান জঙ্গি হামলায় জড়িত এক সন্দেহভাজন জঙ্গির সঙ্গে যোগাযোগ ছিলো পেয়ার আহম্মদের।

বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার খোয়া যাওয়া অস্ত্রসহ র‍্যাবের হাতে পেয়ার আহম্মদ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ২০০৫ সালেই। ১১ বছর আগে ফেনী ও নোয়াখালিতে দায়ের করা দুটি অস্ত্র মামলার আসামী তিনি। জামিনে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে পাড়ি জমান মালয়েশিয়া। পালানোর পর তার বিরুদ্ধে রেড এলার্ট জারি করে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল।

মালয়েশিয়ায় গিয়ে বুকিত বিনতাং এলাকায় রসনাবিলাশ নামে একটি রেস্তোরাঁ চালু করেন পেয়ার। গত ১৯ আগস্ট সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে সেখানকার পুলিশ। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার ও হুন্ডি ব্যবসার মত অবৈধ কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ করছে পুলিশ। তাছাড়া গুলশান হামলার সঙ্গে জড়িত এক সন্দেহভাজন জঙ্গির সঙ্গে পেয়ারের যোগাযোগ ছিলো বলেও জানায় মালয়েশিয়ান পুলিশ।

ফেনীর দাগনভুঞা থানার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের নয়নপুর গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে পেয়ার আহম্মদ। স্থানীয় একটি স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করার পর চট্টগ্রামে লেখাপড়া করেন। লেখাপড়া শেষে চট্টগ্রামেই ব্যবসা করতেন। ফেনীতেও তার মুঠোফোনের দোকান ছিলো। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। জামিনে মুক্ত হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়েই মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান পেয়ার।

২ সেপ্টেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশের সহযোগিতায় দাগনভূঞা থানার পুলিশ পেয়ার আহম্মদকে গ্রেপ্তার করে। ৩ সেপ্টেম্বর দাগণভূঞা থানায় নিয়ে আসা হয় তাকে। পরেরদিন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে ফেনী কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

মালয়েশিয়ায় নিজ রেস্তোরায় গোপন বৈঠক করতেন তিনি, তাছাড়া বাংলাদেশে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনাও তার ছিলো বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ান নিরাপত্তা বাহিনী।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh