বঙ্গ বাহাদুরকে নিয়ে যা ঘটেছে এই ৪৯ দিনে

Comments are closed

দেড় মাস আগের কথা, প্রতিবেশি দেশ ভারতে অবস্থিত পাহাড়ের ঢলে বন্যা কবলিত দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলো। কিন্তু বন্যার দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সাথে সংমাধ্যমের দৃষ্টি কাড়ে একটি প্রাণী- যেটি ২৮ জুন, বানের পানিতে ভেসে আসে ভারতের আসাম থেকে। ব্রহ্মপুত্র নদ বেয়ে  কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে হাতিটি। এরপর বগুড়ার সারিয়াকান্দি হয়ে যমুনা নদীর পানিতে ভেসে সিরাজগঞ্জে। যেখানে দুর্গম ছিন্নারচরে ১১ দিন অবস্থান করে প্রাণীটি। এরপর দেড় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা ঘুরে  হাতিটি পৌছায় জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে।

হাতি উদ্ধারে ৪ আগস্ট আসে ভারতীয় একটি বিশেষজ্ঞ দল কিন্তু হাতি উদ্ধার করতে না পেরে তারা ৭ আগস্ট ফিরে যান তারা। নানামাত্রিক চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে গেল ১১ আগস্ট দূরনিয়ন্ত্রিত চেতনানাশক ছুড়ে হাতিটিকে উদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নেয় বন বিভাগ। ঐদিন দুইটার দিকে হাতিটিকে চেতনানাশক প্রয়োগ করলে দৌড়ে পাশের জলাশয়ে পড়ে যায় প্রাণীটি। অচেতন হয়ে  তলিয়ে যেতে থাকো হাতিটিকে উদ্ধার করে এলাকাবাসী। থাকে। তখন সেটিকে উদ্ধারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন। বন অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা এ সময় স্থানীয় জনতাকে সহযোগিতা করেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা প্রাণীটর নাম দেন বঙ্গ বাহাদুর। পরের দিন বিকেল নাগাদ হুশ ফিরে হাতিটির। গাজীপুরের সাফারি পার্কে হাতিটিকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা থাকলেও শেকল দিয়ে বাঁধা রাখা অবস্থায় কেটে যায় আরও একটি দিন। কিন্তু ১৩ আগস্ট ফের শেকল ছিড়ে জলাশয়ে নেমে পড়ে বঙ্গ বাহাদুর। হাতিটিকে ধরতে আবার বসানো হয় ফাঁদ।

এরপর ১৫ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে কয়ড়া গ্রামে আসে বঙ্গ বাহাদুর। তখন ট্রাঙ্কুইলাইজার গানের মাধ্যমে ফের চেতনানাশক প্রয়োগ করা হয় হাতিটিকে। কিন্তু এতে কাজ না হওয়ায় আরও ৩ বার ওষুধ দেওয়া হয় বঙ্গ বাহাদুরকে। এর কিছুক্ষণ পরই আস্তে আস্তে ঝিমিয়ে পড়ে।  শিকল, রশি ও ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে ৩ দিক দিয়ে  বেঁধে রাখা হাতিটিকে। এরপর আর চোখ মেলেনি বঙ্গবাহাদুর। ভোরে বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয় হাতিটির মৃত্যুর খবর।

হাতিটিকে উদ্ধারে কাজ করেছেন ঢাকার বন অধিদপ্তরের ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল। প্রায় দেড় মাসের উদ্ধার অভিযানে হাতিটি উদ্ধারে আহত হয়েছেন কয়েক সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষ।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh