রিমেকের নামে মৌলিকতা হারাচ্ছে ঢাকাই সিনেমার গল্প

Comments are closed

চিত্রনাট্যকে বলা হয়- সিনেমার হৃদপিণ্ড। চলচ্চিত্র নির্মাণের শুরু একটা গল্পের ধারণা থেকে। যা হতে পারে কাল্পনিক অথবা বাস্তব জীবনের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে। গল্পটাকে রূপ দেয়া হয় চিত্রনাট্যে। যেখানে থাকে সংলাপ, কী ধরনের অভিনয় করা হবে, যন্ত্রগত বিভিন্ন বিষয়ের নির্দেশনা, দৃশ্য পরিবর্তনের সময় সম্পর্কীত বিভিন্ন বিষয়। চলচ্চিত্র গবেষক ফাহমিদুল হকের মতে, যে চিত্রনাট্যের মৌলিকতা আর নতুনত্ব যত বেশি, দর্শকের কাছে সেটি হয়ে উঠে তত আকর্ষনীয়।,জাপানি চলচ্চিত্র নির্মাতা আকিরা কুরোসাওয়াকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন,একটি তৃতীয় শ্রেণীর চিত্রনাট্য নিয়ে একজন প্রথম শ্রেনীর নির্মাতা যে চলচ্চিত্র বানাবেন,একটি প্রথম শ্রেনীর চিত্রনাট্য নিয়ে একজন তৃতীয় শ্রেণীর নির্মাতা তার চাইতে ভাল সিনেমা বানাতে পারবেন। এখানেই বোঝা যায় চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্যর গুরুত্ব কতখানি। আমাদের দেশে চিত্রনাট্যই মূল সমস্যা।”

একটা সময় রূপকথা আর লৌকিক গল্পের ভিত্তিতে এ দেশে চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখা হতো। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রেরও ছিল নিজস্ব একটা ধাঁচ। কিন্তু, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে অনুকরণ নির্ভরতা বাড়ছে ঢাকাই সিনেমার। শুধু অনুকরণ বললে কম বলা হয়। শট টু শট এমনকি ফ্রেম টু ফ্রমও হুবহু নকল করা হচ্ছে, হিন্দি বা তামিল চলচ্চিত্র থেকে। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার মোর্শেদুল ইসলামের মতে, ‘বাণিজ্যিক সিনেমায় সৃজণশীল কলাকুশলীর সংখ্যা কমছে। আর যারা এখনো আছেন, অভাব রয়েছে তাদের পেশাদারিত্বের।’

বাণিজ্যিক বা মূলধারার চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যে সমাজের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরার সুযোগ বেশি। কিন্তু, সেই বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের এমন বেহাল দশা। পরিচালক মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী বলেন, ‘বর্তমান যুগটাই চোখ ঝলসানোর। একেকটা সিনেমা আসে, ব্যাপক প্রচার চালানো হয়, দর্শকরাও হলেও যায়। কিন্তু, ক’দিন পরেই জিজ্ঞেস করেন ওই সিনেমা সম্পর্কে কিছু বলতে পারবেনা না। ’ ফারুকীর মতে, ‘আসল ঘাটতিটা চিত্রনাট্য। মানসম্পন্ন চিত্রনাট্যের অভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন দর্শক।’

একটা সময় সিনেমার চিত্রনাট্য লিখতেন খ্যাতনামা লেখকরাও। আবার, অনেক সময় কোন উপন্যাস বা গল্প থেকে সংগ্রহ করা হতো সিনেমার কাহিনী। বর্তমানে বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের বেশিরভাগেরই চিত্রনাট্য লেখছেন আবদুল্লাহ জহির বাবু। ভিনদেশী সিনেমা থেকে অনুপ্রেরণা নেয়াকে দোষের মনে করেন না তিনি। তবে, হুবহু কপি-কার্ট-পেস্টের বিরোধীতা করেছেন এই চিত্রনাট্যকার। অনুযোগও করেন, বাজেট আর সময় স্বল্পতার কারণে ইচ্ছা থাকলেও সুযোগ হয়ে উঠে না মৌলক কোন গল্প লেখার। বলেন, ‘বেশিরভাগ প্রযোজকই কম সময়ে, কম খরচে কোন কাহিনী পেলেই সন্তুষ্ট। যার ফল, ঢাকায় সিনেমায় নতুনত্ব না থাকা।’

এতসব হতাশার মাঝেও রয়েছে আশার কথা। বাণিজ্যিক ধারার সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে যখন চলছে সমালোচনা, তখন ভিন্নধারার বেশ কিছু চলচ্চিত্র সমাদৃত হচ্ছে দেশে-বিদেশে। এমনকি চিত্রনাট্যের জন্যই বিশেষ সম্মানোনা পেয়েছেন সেসব সিনেমার কলাকুশলীরা।

 

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh