রিশা হত্যাকান্ডঃ আগে প্রাণ বাঁচানো, পরে আইন

Comments are closed

আনোয়ার সাদাত রহমতুল্লাহ, নিউজ ব্রডকাস্টার, রেডিও ধ্বনি।

 

রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার রিশার মৃত্যু হয় অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে হাসপাতালে নেওয়া হলে হয়তো বাঁচানো যেতো রিশাকে। অভিযোগ আছে, পুলিশী জটিলতার ভয়ে তাঁকে সাহায্য এগিয়ে আসেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো। তবে, আইন বলছে, আহত ব্যক্তিকে বাঁচানোই গুরুত্ব পাওয়া উচিত সবার আগে।

 

দিনেদুপরে নিজ স্কুলের সামনেই হামলার শিকার হয় রিশা। কিন্তু, হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সহপাঠিরা ছাড়া এগিয়ে আসেনি কেউই। কারণ, পুলিশী হয়রানির ভয়। এমনকি, পাশ্ববর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এভাবে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছাতেই সময় লেগে যায় প্রায় দুই ঘণ্টা। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রিশা। তার বাবা রমজান হোসেন ও মা তানিয়া হোসেনের আক্ষেপ, ঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে হয়তো বেঁচে যেতো প্রিয় সন্তান।

 

যদিও, রিশাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্কুলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন। আইনজীবী মুনতসির শাহিন মনে করেন, এ ধরণের ঘটনায় পরে পুলিশী বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে বলে ভয় কাজ করে সাধারণ মানুষের। তবে, পুলিশ কেস বলে, আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা না দিয়ে দায়িত্ব এড়াতে পারে না কোন ক্লিনিক বা বেসরকারী হাসপাতাল। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমানও বললেন একই কথা। আগে নিশ্চিত করতে হবে চিকিৎসা। পরে, আইনী প্রক্রিয়া। রিশার মতো দুর্ভাগ্য যেনো আর কারো জীবনে না আসে সে জন্য, সবাইকে সতর্ক থাকা যেমন প্রয়োজন। তেমনি জরুরি, মানবতার স্বার্থে-সকলের এগিয়ে আসা।

 

 

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh