লবনাক্ততায় জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন উপকূলের গর্ভবতীরা

Comments are closed

খুলনার উপকূলবর্তী এলাকায় পানিতে লবনাক্ততা বাড়ায় নানান শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন স্থানীয়রা। এতোদিন, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, অমাশয়সহ পানিবাহিত চর্মরোগে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ভয়বাহ আকার ধারণ করেছে, গর্ভকালীণ নানা সমস্যা। তবে, তা প্রতিরোধে বিশেষ কোন পদক্ষেপ নেই সরকারের।

মা হারা শিশু নাঈমকে ৫ বছর ধরে লালন-পালন করছেন তার নানী রোকেয়া বেগম। জানাচ্ছিলেন, সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মেয়ে নুরুন্নাহারের মৃত্যু হয়। যদিও, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা নেই তাদের। গেল দশকগুলোতে নুরুন্নাহারের মত গর্ভকালীণ কিংবা প্রসবকালীণ সমস্যায় পড়েছেন অনেকেই। তাদের একজন লাভলী বেগম। গর্ভে ৯ মাসের সন্তান নিয়ে, যিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

লাভলী বেগমের পাশে, চিকিৎসা নিচ্ছেন আয়েশা বেগম। সাড়ে পাঁচ মাসের মাথায়, পেটেই মারা যায় তার সন্তান।

গর্ভবতী মায়েদের এমন সমস্যাকে প্রি-আ্যকলামশিয়া বলছেন চিকিৎসকরা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. সন্তোষ কুমার মজুমদারের জানান,ব্যবহার ও পানের মাধ্যমে এই অঞ্চলের নারীদের শরীরে ঢুকছে অতিরিক্ত লবন। যা থেকে দেখা দেয়, হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপ। নানা সমস্যা তৈরি হয়, গর্ভবর্তী নারীদের।

সরকারি উদ্যোগে গর্ভবতী মায়েদের এমন মরণঘাতী সমস্যা নিয়ে হয় নি কোন গবেষণা। তবে বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণা বলছে,খাবার পানির মাধমে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৩ থেকে ১৪ গ্রাম লবণ বেশি গ্রহণ করে উপকূলের  ২ কোটি মানুষ।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh