শিবলীর তুখোরগিরিতে মুগ্ধ  দর্শক

Comments are closed

ক্রাইম থ্রিলার ধাচের চলচ্চিত্রের সংখ্যা দেশ বিদেশে কম নয়। আমাদের দেশের বিগত কয়েক বছরের ছবির সমীকরন টানলেও সেই সংখ্যা পার করতে পারে ১০ এর ঘর। প্রসঙ্গটা  টেনে আনার কারন হলো সদ্য মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র তুখোরের জন্য। শুরু থেকেই প্রচার প্রচারনায় কোন কমতি রাখেনি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। নতুন পরিচালক ,সেই সাথে নতুন নায়ক নায়িকা দিয়ে ঝুকিটাও নিয়েছেন তারা। হয়তো চেয়েছিলেন ২০১৭ এ তুখোর হোক একটি আলোচিত চলচ্চিত্র। তুখোর সেই প্রত্যাশা পূরন করতে পারবে কিনা,সেটা সময়ই বলবে। এখন দেখা যাক,নতুনদের  এই চেষ্টা কতখানি দাগ কাটল দর্শকমনে?

গল্প,চিত্রনাট্য,পরিচালনা:  ড্রাগ ওয়ার্ল্ড সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রন করার নেশায় আসক্ত এক তরুনের গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র তুখোর। ক্রাইম থ্রিলার ধাচের গল্পটিতে পরিচালক লাবুর নতুনত্ব আনার চেষ্টা পরিলক্ষিত। তবে প্রথমার্ধে তুখোরের পরিচয় পর্বকে বেশি পরিমান দীর্ঘায়ীত না করলেও পারতেন চিত্রনাট্যকার।  ড্রাগ ডিলিং যেখানে ছবির মূল বিষয়,সেখানে এসব সিকোয়েন্সগুলোই মনে হয়েছে সবচেয়ে দুর্বল। ছিলো না ছবির ট্যাগ লাইন অপারেশন ক্লাব ডি নিয়ে বিস্তর কোন আয়োজন। যা তুখোরের গল্পে ছিল সবচেয়ে বড় চাওয়া। একটা বিষয় যেটা ভাল লেগেছে,তা হলো একটা সময় বাংলা ছবির গল্প সম্পর্কে আগেই থেকেই বোঝা যেত,কিন্তু তুখোরের ক্ষেত্রে দর্শক শেষটা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন,যেখানে সার্থক পরিচালক। আর সমাপ্তির অসম্পূর্নতা তুখোরের পরবর্তী কিস্তি দেখার আগ্রহ জাগায়।

সংলাপ,অ্যাকশন : সংলাপ যেখানে এ ধরনের ছবির অলংকার, সেখানেও ডাবিং এর ব্যার্থতা। যেহেতু ক্রাইম থ্রিলার ছবি,সেহেতু এর এ্যাকশন দৃশ্যগুলোতে প্রয়োজন ছিলো নতুন কোন নান্দনিকতার। আর যে কয়েকটি অ্যাকশন ছিলো,সেখানে সম্পাদনার ঘাটতি চোখে লাগার মতো।

অভিনয় : তুখোর চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকায় অভিনয় করা শিবলীর নওমানের কথা প্রথমেই বলতে হয়। সুদর্শন এক হিরোর পেছনে বোল্ড একটি একটি চরিত্রকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলে দর্শকদের কাছে প্রশংসা পেয়েছে সে। বলতে গেলে অনেক দর্শকই হল থেকে বেরিয়ে তুখোর তুখোর করে চিৎকার করছিলেন। বলাই যায় তুখোরের তুখোরগিরিতে মুগ্ধ হয়েছেন দর্শক। আর নেশায় আশক্ত তরুনীর চরিত্রে রাতাশ্রী দিয়েছেন সর্বোচ্চ। বাপ্পারাজ,আলীরাজ.টুটুলসহ অন্যন্য চরিত্রগুলো নিজস্ব জাযগায় তাদের যোগ্যতার ছাপ রেখেছেন। তবে লাক্স তারকা সামিহা চুকে গেছেন সে অবস্থান থেকে।

গান ও কোরিওগ্রাফী: চলচ্চিত্রের গানগুলো শ্রুতিমধুর।  কোরিওগ্রাফীর দিকে জোড় দিলে আরও বেশি আকর্ষনীয় হতে পারত। তবে তথাকথিত আইটেম সং নিয়ে বলতেই হচ্ছে। এ ধরনের গান হয়তো ক্ষনিকের চটুলতা দিতে পারে অনেককে। কিন্তু আপত্তি এক জায়গাতেই, আইটেম কন্যার শরীর দেখানোই কী এমন গানের অংশ। শুধু বলতে চাই,আইটেম গান যদি চিত্রায়ন করতেই হয়,তবে আকর্ষনীয় কোরিওগ্রাফীর দিকে নজর দেয়া জরুরী।

সবশেষ নতুন নির্মাতাদের ধন্যবাদ,তারা অন্তত ভিন্নধর্মী চলচ্চিত্র দিয়ে দর্শককে হলে টানার চেষ্টা করছেন। অনেক প্রতিকূলতা জানা সত্ত্বেও নতুন ছেলে মেয়েরা আসছে বাংলা চলচ্চিত্রের অংশ হতে। বাহবাটা এখানে দিতেই হবে তুখোর পরিবারকে। জয় হোক বাংলা চলচ্চিত্রের।

 

রিভিউ: জাকিয়া হিমু

ব্রডকাস্টার, রেডিও ধ্বনি

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh