শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে অচলাবস্থা

Comments are closed

বর্ষায় টানা এক’মাসেরও বেশি সময় ধরে অচলাবস্থা চলছে দেশের ব্যস্ততম শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে। তীব্র স্রোতের কারণে অচলাবস্থার পর এবার নৌরুটটি ভুগছে তীব্র নাব্যতা সংকটে। ফলে রো রো ফেরিসহ প্রায় সব ফেরিই মাঝে মাঝেই বন্ধ থাকছে। আটকে পড়ছে ডুবোচরে। এতে আসন্ন কোরবানির ঈদে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শংকা প্রকাশ করেছে।

বর্ষায় গত এক মাস ধরে রাজধানী ঢাকার সাথে স্বল্প দূরত্বের শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটের শিমুলিয়া অংশের মুল  পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত দেখা দেয়ায় অচলাবস্থার শুরু হয়। একদিকে পানি বেড়ে তীব্র স্রোত, অপর দিকে স্রোতের তীব্রতায় নদীর পার ভাঙ্গনের ফলে পলি পড়ে চ্যানেলে নাব্যতা সংকট। গত এক মাসের চিত্রই এমন।  স্রোতের গতিবেগ তীব্র হওয়ার কারনে ফেরি, লঞ্চসহ নৌযানগুলো দেড় দুই কিলোমিটার উজানে গিয়ে চলতেও হিমশিম খাওয়ায় সংযুক্ত করা হয় বিআইব্লিউটিএর শক্তিশালী  ট্যাগ জাহাজ- বলে জানান ডাম্ব ফেরীর সেকেন্ড মাস্টার ইনচার্জ নূরুল ইসলাম।

এরপরও গত এক সপ্তাহ ধরে পরিস্থিতি আরো বেগতিক হয়ে উঠে। পানি কমার সাথে সাথে সংকট আরো প্রকট রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে এ রুটের লৌহজং টার্নিংএ পরিস্থিতি ভয়াবহ। মূল নদী থেকে চ্যানেল শুরু হওয়ায় এ পয়েন্টে উজানের তীব্র ভাঙ্গনের পলি দ্রুত পড়ছে। এতেই সংকট চরম রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এ পয়েন্টের আশপাশে ৬ টি ড্রেজারসহ মোট ৯টি ড্রেজার কাজ করলেও হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এতে একদিকে ফেরির প্রপেলারসহ যন্ত্রাংশ ক্ষতির মুখে পড়ছে, অপরদিকে যানবাহন কম পার হওয়ায় রাজস্ব আদায় কমে গেছে। যানজট নিত্যসঙ্গী হওয়ায় অনেক যানবাহনই এড়িয়ে চলছে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে স্বল্প দূরত্বের এ রুট।

সংকটের কারনে শ্রমিক ও যাত্রীরা জানান নানান ভোগান্তির কথা। অভিযোগ তুলেন ড্রেজিং নিয়ে। ঈদের আগে স্বাভাবিক নৌরুটের দাবী সকলের। এদিকে, পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারনে ড্রেজিং এ সমস্যা হচ্ছে বলে দাবী করেছেন ড্রেজার চালক রেজাউল করিম।  সংকটের কথা স্বীকার করে পরিস্থিতি সামাল দিতে ড্রেজিং চলছে বলে জানান বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম। কোরবানির ঈদ আসন্ন তাই সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবী দক্ষিণাঞ্চলবাসির।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh