শোক আর শ্রদ্ধায় পালিত হচ্ছে ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার ১২তমবার্ষিকী

Comments are closed

ইতিহাসের ভয়াবহতম গ্রেনেড হামলার ১২তম বার্ষিকী আজ। ১২ বছর আগে আজকের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে।  ওই হামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় কয়েকজন নেতা অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও নিহত হন ২৪ জন। এ ছাড়া এই হামলায় আহত হন আরো অন্তত ৪০০ জন। আহতদের অনেকেই চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দলটিকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্যই পরিকল্পিত ভাবে এই হামলা করেছিল বিএনপি –জামায়াত। আর আইন জীবিরা বলছেন, তৎকালীন সরকার মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নেয়ায় বিচারকাজ সম্পন্ন হতে বিলম্ব হচ্ছে।

এভাবে পরপর, ১৩টি গ্রেনেডে কেপে উঠে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ,জিপিও,পল্টনসহ আশপাশের এলাকা। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী কর্মসূচিতেই চালানো হয় ইতিহাসের বর্বরতম এই হামলা। ঘটনাস্থলেই ঝরে পড়ে ১২ টি তাজাপ্রাণ। আহত হন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী। পরে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ ও মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আইভি রহমানসহ আরও ১২ জন।

জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সেদিন, শেখ হাসিনাকে বোমা হামলা থেকে বাঁচাতে আগলে রাখেন দলের নেতাকর্মীরা। তাদের একজন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সে সময়ের সাধারণ সম্পাদক এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই পরিকল্পিত ভাবে এই হামলা চালায় সেসময় ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট।

শুরুতেই মামলাটিকে ভিন্নখাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। সাজানো হয় জজ মিয়া নাটক। চারবছর পর, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে কিছুটা গতি পায় মামলা। হত্যা  ও  বিষ্ফোরক আইনে করা দুটি মামলার প্রথম চার্জশিট জমা দেয়া হয় আদালতে। পরে ২০১২ সালে, পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে দুই মামলার একটিতে ৫২ জন ও অপরটিতে ৪০ জনকে আসামি করা হয়। যেখানে উঠে আসে জোট সরকারের মন্ত্রী,উপমন্ত্রীসহ অনেকের নাম। কিন্তু, দীর্ঘ একযুগেও শেষ হয়নি মামলার বিচারকাজ। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন,বিএনপি-জাময়াত জোটের অপচেষ্টায় বিলম্ব হয়েছে মামলার কার্যক্রম।

রাষ্ট্রপক্ষের এই কৌসুলী আরও জানান, এরইমধ্যে সাক্ষগ্রহণ করা হয়েছে ২২৪ জনের। চলতি মাসেই রায় ঘোষণার কথা থাকলেও নানা জটিলতা তা সম্ভব হবে না। তবে, শিগগিরই মামলার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইনজীবী রেজাউর রহমান।

২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ  বিদেশে পলাতক রয়েছেন ১৯ জন। আর , কারাগারে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান বাবর ও হরকাতুল জিহাদ প্রধান মুফতি হান্নান। এছাড়া, জোট সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধে এবং গেল বছর কারাগারে মৃত্যু হয় উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর। বাকী আসামিরাও রয়েছেন বিভিন্ন কারাগারে।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh