সার্কের বিকল্প কি?

Comments are closed

ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েনে প্রশ্ন উঠেছে সার্কের কার্যকারিতা নিয়ে। এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা, সার্কের বিকল্প জোট খোঁজা বা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। আবার সার্ককে বাদ দেওয়ার বিপক্ষেও কেউ কেউ।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভারত শাসিত কাশ্মিরের উরি সেনা ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার পর থেকে নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। হামলার পর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার ঘোষণা দেন। আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সার্ক সম্মেলনের পরিবেশ নেই জানিয়ে ইসলামাবাদ সম্মেলন বয়কটের ঘোষণা দেয় ভারত।

সার্কের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ছিল আগে থেকেই। নতুন করে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সার্ক ভুলে বঙ্গোপসাগরভিত্তিক দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোটের ওপর জোর দিতে হবে বাংলাদেশকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক চক্রবর্তীর মতে, অকার্যকর সার্ককে বাদ দেওয়াই ভালো।

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে ১৯৯৭ সালে বিবিআইএন গঠিত হয়। একই বছর বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান নিয়ে গঠিত হয় বিমসটেক জোট, যার সদরদপ্তর ঢাকায়। তবে সার্ক সদস্যগুলোর মধ্যে জোট দুটিতে নেই, মালদ্বীপ আর জঙ্গিবাদ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, আঞ্চলিক সহমর্মীতা বজায় রাখতে গেলে বাদ দেওয়া যাবেনা কোন দেশকেই। বিমসটেক ও বিবিআইএনকে সার্কের বিকল্প হিসেবেও অবাস্তব বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটা সময় ছিল সামরিক শক্তির প্রভাবে এই অঞ্চলে জোট ভাঙা-গড়া চলত। তবে বর্তমানে অর্থনৈতিক বিষয়টিও এক্ষেত্রে প্রধান্য পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে সার্কের অগ্রগতিতে পাকিস্তান যদি অন্যতম বাধা হয় তবে রাষ্ট্রই ঠিক করবে কোন জোটে থাকবে।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh