জেনারেল জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে কোনো সহায়তাই পাননি সেনাপ্রধান

Comments are closed

মামলার ৪৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জেনারেল শফিউল্লাহ বলেছেন,  ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে তিনি উপপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে কোনো সহায়তাই পাননি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড মামলার দলিলের ভিত্তিতে রেডিও ধ্বনির ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে অস্টম পর্ব।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ৪২ নম্বর সাক্ষী মেজর জিয়া বলেছেন, ১৫ আগস্ট সকালে সেনা সদরে আলোচনা হয়, যেহেতু বঙ্গবন্ধু ইতিমধ্যে নিহত হয়েছেন, তাই কোনো পদক্ষেপ নিলে গৃহযুদ্ধ ও অযথা রক্তক্ষয় হতে পারে, তাই কোনো পদক্ষেপে নেয়া সমীচীন হবে না। তিনি জানান, ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ রক্ষী বাহিনীর পরিচালক মেজর হাসানকে রেডিও সেন্টারে নিয়ে যেতে নির্দেশ দিলে তিনি তা পালন করে হাসানকে রেডিও স্টেশনে নিয়ে যান। তবে হাসানকে নিয়ে যাওয়ার সময় রক্ষী বাহিনীর হেডকোয়ার্টারে রক্ষী বাহিনীর সদস্যদেরকে ব্যাটল ড্রেসে দেখেছিলেন মেজর জিয়া।

সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহর অভিযোগ, ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে তিনি উপপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাননি। এরপর ১৯ আগস্ট ফর্মেশন কমান্ডারদের কনফারেন্স শুরু হওয়ার আগে ব্রিগেড কমান্ডার কর্নেল সাফায়েত জামিল তার সঙ্গে দেখা করে বলেন, ‘ডু নট ট্রাস্ট ইওর ডেপুটি, হি ইজ বিহাইন্ড অল দোস থিংস।’

ওইসময় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ৪৬ ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার কর্নেল শাফায়েত বলেন, রশিদের সঙ্গে নিরস্ত্র অবস্থায় ছিলেন ৪৬ ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর হাফিজ এবং আর্মি হেডকোয়ার্টারের অফিসার লে. কর্নেল আমিন আহম্মেদ চৌধুরী। সাফায়েতকে দেখামাত্র মেজর রশিদ বলে, উই হ্যাভ ক্যাপচার্ড স্টেট পাওয়ার আন্ডার খন্দকার মুশতাক। শেখ ইজ কিলড। ডু নট ট্রাই টু টেক এনি অ্যাকশন এগেইনস্ট আস।

ঠিক সেই মুহূর্তে সাফায়েতকে ফোন করেন মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ। সেনাপ্রধান তখন তাকে বলেন, বঙ্গবন্ধু তাকে টেলিফোনে বলেছেন, আক্রমণকারীরা সম্ভবত শেখ কামালকে মেরে ফেলেছে। সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা বলে সাফায়েত তার অধীনে থাকা ফার্স্ট, সেকেন্ড এবং ফোর্থ বেঙ্গল রেজিমেন্টের তিন কমান্ডিং অফিসারকে টেলিফোনে ব্যাটালিয়ন প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন বলে দাবি করেন।

কর্নেল সাফায়েত ফার্স্ট বেঙ্গল ইউনিটের লাইনের ভেতরের রাস্তার উপরে আরো তিনটি ট্যাংক আক্রমণাত্মক অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, তাৎক্ষণিকভাবে ওই ট্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব ছিলো না।

এ মামলার ৪৫ নম্বর সাক্ষী শফিউল্লাহ বলেছেন, বেঙ্গল রেজিমেন্টের কোনো নড়াচড়ার আভাষ না পেয়ে তিনি সিজিএস খালেদ মোশাররফকে ৪৬ ব্রিগেডে গিয়ে সাফায়েত জামিলকে সহায়তা করার নির্দেশ দেন। তবে তার দাবি, সেসময় জিয়া বলেছিলেন: ডু নট সেন্ড হিম, হি ইজ গোয়িং টু ম্পয়েল ইট।

ওইসময়ের সেনাপ্রধান শফিউল্লাহ তার সাক্ষীতে একথাও বলেছেন যে, সকাল ৭টার দিকে হত্যাকান্ডের খবর নিশ্চিত হওয়ার পর ডেপুটি চীফ জেনারেল জিয়া বলেন, সিজিএস খালেদ মোশাররফকে আর বাইরে যেতে দিও না। বরং ‘ইন্ডিয়ান আর্মি মাইট গেট ইন দিস প্রি-টেক্সট’ উল্লেখ করে জিয়া তাকে ‘অপস অর্ডার’ তৈরি করতে বলেন। আগামীকাল শুনবো ব্রিগেড কমান্ডারদের অপস অর্ডারের আরো কিছু কথা।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh