নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে প্রেক্ষাগৃহে কেলোর কীর্তি : সমালোচনায় চলচ্চিত্রাঙ্গন

Comments are closed

 

চলচ্চিত্রের অসম বিনিময় নিয়ে আবারও ক্ষুব্ধ বাংলা সিনেমার কলাকুশলীরা। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে ঢালিউড পাড়ায়, সমালোচনার ঝড়- যৌথ প্রযোজনা আর সাফটা চুক্তির আওতায় চলচ্চিত্র বিনিময়কে ঘিরে। প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ-আমাদানি নীতি না মানার। কিছুদিন আগে জাজের এক অনুষ্ঠানে নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয় সরকারের কাছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও দেন আশ্বাস। বলেন আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই সবকিছুর সমাধান করবে সরকার। প্রতিযোগীতাপূর্ন বাজারে ভাল ছবি নির্মানের জন্য নির্মাতাদের আহবানও জানান তিনি।

শেষ পর্যন্ত আদালতের দারস্থও হন বাংলার সিনেমা সংশ্লিষ্টরা। নীতি না মানার কারনে ১৯ জুলাই কেলোর কীর্তি প্রদর্শনে জারি করা হয় আদালতের স্থগিতাদেশ। ফলে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও, সেটাও ভেস্তে যায় ২৪ জুলাই আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারে। ফলে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শণে আইন বাধা থাকলো না ভারতীয় চলচ্চিত্র কেলোর কীর্তির। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কেলোর কীর্তির বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করা হবে ঢালিউডের সাকিব খানের রাজা ৪২০।

কিন্তু, একদিকে তারকবহুল বড় বাজেটের ছবি কেলোর কীর্তি, আর বিপরীতে পুরাতন ধাঁচের কম বাজেটের রাজা ৪২০ এর বিনিময়ের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। বিএফডিসির সেন্সর বোর্ডের সদস্য ও পরিচালক সমিতির মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, “যে সময়, সুদিন ফিরতে শুরু করেছিল বাংলা ছবির,তাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অসম বিনিময়। সরাসরি কোলকাতার ছবি প্রদর্শনে বাংলা ছবির প্রতি আগ্রহ হারাবে দর্শক। পাশাপাশি যৌথ প্রযোজনায় ফেলতে পারে নেতিবাচক প্রভাবও।”

এদিকে, যৌথ প্রযোজনার ছবির জন্য খ্যাত ও একই সঙ্গে বিতর্কিত জাজের কর্নধার আব্দুল আজিজও সমালোচনা করেছেন, চলচ্চিত্রের অসম বিনিময় নিয়ে। জাজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি তুলে ধরেছিলেন,এই আমদানি নির্ভর ছবির বিভিন্ন দিক। তার মতে,আমদানি নীতির ফাকফোকর দিয়ে দুই দেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা বানিজ্য করে যাবে,আর সেই ফল ভোগ করবে সাধারন কলাকুশলী ও দেশের চলচ্চিত্র শিল্প।

তবে, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আমদানির ছবি নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ  নতুন নয়, । কেলোর কীর্তির ক্ষেত্রেও নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি । বাঙালি দর্শকরা যথেষ্ঠ বুদ্ধিমান। তবে আমি মনে করি ব্যক্তিস্বার্থ নষ্টের আশঙ্কা থেকেই চলছে এমন সমালোচনা।

সরকারের আশ্বাস কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তা সময় বলে দিবে। তবে, কেলোর কীর্তি প্রদর্শনের সময় প্রেক্ষাগৃহের সামনে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার পালা কেলোর কীর্তি দর্শকের কাছে কতটা গ্রহনযোগ্য হয়?

 

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh