রক্ষী বাহিনীর আত্মসমর্পনের কথা প্রথম জানান মেজর জিয়াউদ্দিন

Comments are closed

মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে ডিজিএফআই’র ওই সময়ের ঢাকা ডিটাচমেন্টের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজর জিয়াউদ্দিন অভিশপ্ত সেই সকালে সেনা সদর এবং রক্ষী বাহিনীর অসহায় আত্মসমর্পণের কথা জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড মামলার দলিলের ভিত্তিতে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে দশম পর্ব।

জেনারেল শফিউল্লাহ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে সেনাবাহিনী প্রধান হলেও ওই সিদ্ধান্ত দেয়া রাষ্ট্রপতির চরম দুঃসময়ে প্রথম সুযোগেই তিনি পাশে দাঁড়াতে পারেননি। যে কারণে তাকেও সেনাপ্রধানের পদ থেকে সরে যেতে হয়, রাষ্ট্রদূত হয়ে চলে যেতে হয় বিদেশে। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ৪৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সেসময়ের সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহর সাক্ষ্যে তার সেই ব্যর্থতা এবং অসহায়ত্বের কথা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

ওই সময়ের গোয়েন্দা ব্যর্থতার কথাও জানা গেছে তার বক্তব্যে। বোঝা গেছে, খুনিরা আগের সন্ধ্যা থেকে সাজ সাজ রবে হত্যা প্রস্তুতি নিলেও গোয়েন্দারা বিষয়টি জানতে কিংবা জানাতে পারেন নি। যখন জানিয়েছেন তখন আর্টিলারি এবং ল্যান্সার সদস্যরা বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে পৌঁছে গেছেন। শফিউল্লাহ তার সাক্ষ্যে জানান, ১৫ আগস্ট তার ব্যাটম্যান দরোজা ধাক্কা দিলে বের হয়ে দেখেন ডিরেক্টর, মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স লেফটেন্যান্ট কর্নেল সালাহউদ্দিন এসেছেন। সালাহউদ্দিন তাকে জিজ্ঞেশ করেন, স্যার, আপনি কি আরমার এবং আর্টিলারিকে শহরের দিকে যেতে বলেছেন? জবাবে শফিউল্লাহ না বললে সালাহউদ্দিন জানান, তারা তো রেডিও সেন্টার, গণভবন এবং ৩২ নম্বর রোডের দিকে যাচ্ছে।

ডিএমআইর কথা শুনে সেনাপ্রধান শংকিত বোধ করেন এবং জিজ্ঞেস করেন, ডাজ সাফায়েত নো অ্যাবাউট ইট? কর্নেল সালাহউদ্দিন এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং প্রথমে আপনার কাছেই এসেছি জানালে শফিউল্লাহ তাকে বলেন, সাফায়েতের কাছে যাও এবং তিনটা পদাতিক ব্যাটালিয়নকে দিয়ে প্রতিহত করার জন্য আমার নির্দেশ জানাও, আমিও তাকে টেলিফোনে নির্দেশ দিচ্ছি। শফিউল্লাহ জানান, সেসময় সেনাপ্রধান বঙ্গবন্ধুকে ফোনে না পেলেও একসময় বঙ্গবন্ধুই তাকে ফোনে পেয়ে বলেন, শফিউল্লাহ তোমার ফোর্স আমার বাড়ি অ্যাটাক করেছে। কামালকে বোধহয় মেরে ফেলেছে। তুমি জলদি ফোর্স পাঠাও। জবাবে শফিউল্লাহ প্রেসিডেন্টকে কিছু একটা করছি বললেও রাষ্ট্রপতিকে তাৎক্ষণিকভাবে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান। আর্মি চিফ বলেছিলেন: আই অ্যাম ডুয়িং সামথিং, ক্যান ইউ গেট অব দ্যা হাউস?

মৃত্যদণ্ডে দণ্ডিত সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে, আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতে হত্যাযজ্ঞ শেষে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তারা রেডিও স্টেশনে গিয়ে দেখে, মেজর ডালিম এরইমধ্যে রেডিওর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শেখ মুজিবকে হত্যার কথা প্রচার করছে।

কিছু পরে খন্দকার মুশতাক রেডিও স্টেশনে আসে। সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ, নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম এইচ খান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইম মার্শাল একে খন্দকার, বিডিআর প্রধান মেজর জেনারেল খলিলুর রহমান, পুলিশ প্রধান নুরুল ইসলাম এবং রক্ষী বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেজর হাসান সেখানে এসে রেডিও ঘোষণার মাধ্যমে খন্দকার মুশতাকের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেন। রেডিও স্টেশনে সেসময় জেনারেল জিয়াউর রহমান ছাড়াও কর্নেল তাহের এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল  আতাউল গণি ওসমানী উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন ৩৭ নম্বর সাক্ষী রিয়াজুল হক।

Comments are closed.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh